প্রিম্যাচিউর বেবি বলতে কি বুঝায় ?  প্রিম্যাচিউর বাচ্চার যত্ন ? কত সপ্তাহে বাচ্চা ম্যাচিউর হয় ?

কত সপ্তাহে বাচ্চা ম্যাচিউর হয়  বা পরিপূর্ণ গর্ভবতী কত দিনে বাচ্চা প্রসব করে ?

সময়ের পূর্বেই সন্তান প্রসব (Pre-term Delivery) গর্ভাবস্থার বয়স ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হলে এই অবস্থাকে পরিপূর্ণ গর্ভাবস্থা (Term pregnancy) বলা হয় । আর ৩৭ সপ্তাহ হতে ৪২ সপ্তাহে মধ্যে জন্ম নিলে এই শিশুগুলোকে পরিপক্ক বা টার্ম বেবী (Term baby) বলা হয় । টার্ম বেবীরা পরিপূর্ণতা লাভ করে জন্মগ্রহণ করে বলে এই সব বাচ্চাকে নিয়ে তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না ।

infertilityorg

infertility & Health tips এর আপডেট তথ্য পেতে google news” অনুসরণ করুন

প্রিম্যাচিউর বেবি বলতে কি বুঝায় ?  প্রিম্যাচিউর বাচ্চার যত্ন ? কত সপ্তাহে বাচ্চা ম্যাচিউর হয় ?

কিন্তু ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোনো কারণে যদি সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তবে এ সব বাচ্চাদের নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় । আর ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার যত আগে সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তাদের নিয়ে ঝামেলাও তত বেশি হয় । এ ধরনের নবজাতকেরা তাদের দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক মাত্রায় ধরে রাখতে পারে না । ফলে দেহের তাপমাত্রা কমে যায় এবং এ জন্য অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয় । এদের তাপমাত্রা খুব বেশি কমে গেলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে । এই সঠিক দৈহিক তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য এদেরকে কখনও কখনও ইনকিউবেটরে (Incubator) রাখার প্রয়োজন হতে পারে । এদের ইনফেকশন হওয়ায় ঝুঁকিও বেশি থাকে । তাই এ ধরনের নবজাতককে খুব সাবধানে লালন-পালন করতে হয়। কখনও কখনও এদেরকে ইনজেকশনের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিকস (Antibiotic)

দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বেশি ছোট হয়ে জন্মগ্রহণ করলে এরা মায়ের দুধ চুষে খেতে পারে না। তাই এদেরকে নল দিয়ে খাওয়ানোর প্রয়োজন হতে পারে ।

আরও জানুনঃগর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা এবং গর্ভবতী মায়ের খাবার ?

সময়ের পূর্বেই সন্তান প্রসব কেন হয়, তার সঠিক কারণ এখনও আমাদের জানা না থাকায় এই অবস্থার সঠিক চিকিৎসা করাও ডাক্তারদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের শিশুকে জন্মের পর নবজাকদের জন্য আইসিইউতে (Neonatal intensive care unit) রাখতে পারলে তাদের বেশিরভাগই পরবর্তীতে সুস্থ্য সবল হয়ে বেড়ে উঠতে পারে ।

সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য তলপেটে অর্ধচন্দ্রাকৃতি আকারে কাটা হয় ৷

সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করতে বাধা থাকলে বা স্বাভাবিক সন্তান জন্মে মা ও বাচ্চার জীবনের ঝুঁকি থাকলে পেট কেটে বাচ্চা ডেলিভারি করানোর পদ্ধতিকেই সিজারিয়ান সেকশন বলা হয়। বিভিন্ন কারণে এই সিজারিয়ান সেকশন করা হয়। এর মধ্যে জরায়ুর মুখ খোলার পূর্বে সন্তানের সমস্যা হওয়া, বাচ্চার মাথার তুলনায় প্রসবপথ ছোট হওয়া, ফুল জরায়ুর নিচের দিকে থাকা ইত্যাদি সিজারিয়ান সেকশন করার প্রধান প্রধান কারণ । এটি আজকাল নিরাপদ অপারেশন । তবে এই অপারেশান করার পূর্বে অবশ্যই এর প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে এবং এটি অবশ্যই একজন ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞের কাজ ।

আরও জানুনঃ গর্ভবতী মায়ের যত্ন কি কি এবং গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের সতর্কতা ? গর্ভবতী মায়ের কি কি চেকআপ করা দরকার ?

সিজারিয়ান কেন করতে হয় ?

মায়ের অবস্থার জন্য সিজারিয়ান অপারেশন সিজারিয়ান কেন করতে হয় তার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো :

  • মায়ের ডেলিভারির রাস্তা যথেষ্ট প্রসস্ত না হলে ।
  • মায়ের গর্ভফুল যদি জরায়ুর নিচের দিকে অবস্থান করে ।
  • মায়ের যদি জটিল প্রি-একলামশিয়া হয়ে থাকে ।
  • মায়ের যদি পূর্বে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকে ।
  • এছাড়া মায়ের যদি কোনো মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা থাকে ।

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় রক্তের চাপ বেড়ে যাওয়া এবং গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হলে কি হয় ? গর্ভাবস্থায় প্রেসার লো হলে করণীয় ?

বাচ্চার অবস্থার জন্য সিজারিয়ান করানোর উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে হলো :

সিজারিয়ান কেন করতে হয়
সিজারিয়ান কেন করতে হয়
  • গর্ভাবস্থায় বা ডেলিভারির সময় বাচ্চার কষ্ট হওয়া, যাকে ইংরেজিতে (Foetal Distress) বলা হয়। ফিটাল ডিসট্রেসে এ সিজারিয়ান না করলে বাচ্চা মারা যেতে পারে বা জন্মের পর মানসিক সমস্যা ও বিকলাঙ্গতায় ভুগতে পারে ।
  • বাচ্চা খুব বড় হলে ।
  • বাচ্চার অবস্থান মায়ের জরায়ুতে স্বাভাবিক না হলে- উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, বাচ্চা পেটে উল্টোভাবে থাকলে, যাকে (Breech Presentation) বলা হয় ।
  • বাচ্চা যদি অত্যন্ত মূল্যবান হয় অর্থাৎ অনেক দিনের চেষ্টার ফলে যদি গর্ভে সন্তান আসে। তখন রোগীর স্বামী ও আত্মীয়স্বজন স্বাভাবিক ডেলিভারির মাধ্যমে বাচ্চার ওপর কোন ঝুঁকি নিতে চান না । ফলে সিজারিয়ান সেকশন করার প্রয়োজন হয় ।
  • গর্ভের সন্তান সঠিকভাবে বৃদ্ধি না পেলে ।

আরও জানুনঃ নরমাল ডেলিভারি হওয়ার লক্ষণ কি কি ? প্রসব ব্যথা বা ডেলিভারির ব্যথা কেমন হয় এবং শুরু হওয়ার লক্ষণ সমূহ ?

সবদিক বিবেচনা করলে সাধারণত শতকরা ১০ ভাগ ডেলিভারি সিজারিয়ানের মাধ্যমে করার প্রয়োজন হয়ে থাকে ।

সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। আমেরিকায় এখন শতকরা ২৮জন মহিলারই সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকে । আমাদের দেশে, শহরে এই সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যা কিছু বেশি হলেও সারা দেশে মহিলাদের এখনও শতকরা ১ ভাগও সিজারিয়ান ডেলিভারি হয় না ।

যদি একবার সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়, তবে কি সব সময় সিজারিয়ান ডেলিভারি হবে?

 এর উত্তর হলো- প্রথমবার সিজারিয়ান ডেলিভারি হলেই যে দিত্বীয় বার সিজারিয়ান ডেলিভারি হবে বিষয়টি এমন নয়;

• বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণত দ্বিতীয়বারও সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রয়োজন হয়।

এ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে মায়ের শারীরিক অবস্থা, অবস্থা ও অবস্থান, মায়ের প্রসব রাস্তার প্রসারতা, পূর্বের সিজারের কারণ, সিজার সময়কালীন ও সিজার পরবর্তী জটিলতা (যদি থাকে) ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে একজন চিকিৎসক পরবর্তী ডেলিভারি সম্বন্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন ।

আরও জানুনঃ ওভুলেশন কি ? ওভুলেশন কিভাবে হয় ? ডিম্বাণু কত দিন জীবিত থাকে|গর্ভধারণের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সময় বোঝার উপায় ?

মনে রাখতে হবে, পূর্বে একবার সিজার করা হয়ে থাকলে পরবর্তীতে স্বাভাবিক ডেলিভারি করানো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ । পূর্বে একবারের বেশি সিজার করা হয়ে থাকলে পরবর্তী বাচ্চা অবশ্যই

সিজার করে ডেলিভারি করাতে হবে । সিজারিয়ান ডেলিভারির দেড় মাস পর হতে আপনি প্রায় সব কাজকর্মই করতে পারবেন। শুধু ভারি কোন জিনিস আরও দেড় মাস উত্তোলন না করাই ভালো । অপারেশনের দিন হতে ৩ মাস পর সিজার করানো একজন মহিলার সাথে অন্য একজন মহিলা, যার কখনো কোন অপারেশন হয়নি, কোন পার্থক্য থাকে না ।

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় যে সব ভিটামিন খাওয়া যাবে না এবং কোন ভিটামিন খাওয়া যাবে ?

আগে সিজার থাকলে কখন পরের সিজার করানো হয় ঃ

আগের বাচ্চা যদি সিজারিয়ান ডেলিভারি হয় এবং এবারও আপনার ডাক্তারের মতে যদি সিজারিয়ান ডেলিভারির সিদ্ধান্ত হয়, তবে ৩৭ সপ্তাহ থেকে ৪০ সপ্তাহের মধ্যে অর্থাৎ বাচ্চা প্রসবের তারিখ (EDD) থেকে অনধিক তিন সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো সময়ে সিজারিয়ান করা যেতে পারে । তবে মনে রাখতে হবে, এখানে গর্ভের সন্তানের বয়স নিয়ে যেন কোন সন্দেহ না থাকে । আমি আগেই বলেছি যে, গর্ভে সন্তানের বয়স নির্ধারণে যদি কোন অসুবিধা থাকে তবে ৭-১০ সপ্তাহ গর্ভকালে আল্ট্রাসাউন্ড (Ultra Sound) পরীক্ষার মাধ্যমে CRL এবং ১৪-২৪ সপ্তাহ গর্ভকালে BPD দ্বারা বাচ্চার বয়স সঠিকভাবে নিরূপণ করে রাখতে হবে ।

আরও জানুনঃ গর্ভবতী মায়ের প্রসব পরিকল্পনা কি ? ভালো প্রসব পরিকল্পনায় কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে ?

সন্তান জন্মানোর পর সন্তানের বাঁচার সম্ভাবনা নির্ভর করে কোন কোন বিষয়ের ওপর ?

১. গর্ভস্থ সন্তানের বয়স : আমাদের দেশের জন্য সাধারণত ৩৬-৩৭ সপ্তাহ বয়স হলে বাচ্চা পরিপক্কতা (Maturity) লাভ করে এবং তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাই বেশি ।

২. নবজাতকের পরিচর্যা : যে দেশে নবজাত শিশুর জন্মের পর পরিচর্যা যত বেশি উন্নত সে দেশে শিশুর পরিপক্বতা (Maturity) লাভের তত বেশি পূর্বে জন্মগ্রহণ করার পরেও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি ।

সন্তান জন্মের পর গোসল

স্বাভাবিক প্রসবের পর মা যখন চাইবেন তখনই গোসল করতে পারবেন । যদি সিজারিয়ান ডেলিভারি হয় তবে অপারেশনের দিন থেকে ১/২ সপ্তাহ দেরি করে গোসল করাই ভালো । এর মধ্যে প্রতিদিনই মা সারা শরীর মুছে নিতে পারেন এবং প্রয়োজনে মাথাও ধুয়ে নিতে পারেন । এই সময় প্রথম ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত গোসল করার সময় পানিতে ডুবে গোসল না করে গায়ে পানি ঢেলে গোসল করাই ভালো ।

ডিসক্লেইমার: এখানে উপরোক্ত হেলথটিপস এবং পরামর্শগুলি অনুসরণ করার পূর্বে , ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।

রিলেটেড ট্যাগঃ সিজারিয়ান কেন করতে হয় ?

Leave a Reply