হঠাৎ কিডনি বিকল কি ? কিডনি ড্যামেজের কারণ বা আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ার কারণ সমূহ ?

Table of Contents

হঠাৎ কিডনি বিকল কি বা কিডনি বিকল হওয়ার কি ?

আকস্মিক কিডনী বিকল (ARF) করে কয়েক ঘন্টা থেকে শুরু করে কয়েকদিনের মধ্যে কিডনীর কার্যকারিতা দ্রুত বিকল হতে থাকে তখন  থাকে তখন তাকে আকস্মিক কিডনী বিকল্প বা Acute Renal Failure বলে ।

infertilityorg

infertility & Health tips এর আপডেট তথ্য পেতে google news” অনুসরণ করুন

কিডনি ড্যামেজের কারণ বা আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ার কারণ সমূহ ?

কিডনি ড্যামেজের কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োগের উপর নির্ভর করে এর Prognosis বা ঐ বিকল্প কিডনীর কার্যক্ষমতা ফিরে আসা । কেননা আকস্মিক সময়, সঠিক চিকিৎসায় ৫০-৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় হয়। কিডনি ড্যামেজের কারণ বা আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ায়রোগে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে রোগীরঃ

  • প্রস্রাব কমে যায় এবং;
  • পর্যায়ক্রমে প্রসাব একদম বন্ধ হয়ে যেতে পারে;
  • যার ফলে রক্তের অপ্রয়োজনীয় বিষাক্ত দ্রব্য যেমন: ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, পটাশিয়াম ও এসিড এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায় এবং রোগীর নানা উপসর্গ দেখা যায়।
  • আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ায়আনুসাঙ্গিক চিকিৎসার সঙ্গে প্রয়োজন হয় কারো কারো ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে ডায়ালাইসিসের মত চিকিৎসা । তারপরও আকস্মিক কিডনী বিকল রোগে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী মারা যেতে পারে ।

আরও জানুুুনঃ নেফ্রাইটিস কি ? নেফ্রাইটিস কেন হয় ? নেফ্রাইটিস এর সাধারণ কারণ কি ? কিডনি ভালো রাখার উপায় কি ?

কিডনি ড্যামেজের কারণ বা আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ার কারণ সমূহ ?

কিডনি ড্যামেজের প্রচলিত কারণ হিসেবে একুইট রেনাল ফেলিওরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ।

১. Pre-Renal : যদি কোন কারণে (যেমন: অতিমাত্রায় ডায়রিয়া, বমি বা রক্তক্ষরণের ফলে) ব্লাড প্রেসার কমে যায় ও কিডনীতে রক্ত সরবরাহ প্রয়োজনের চেয়ে কম হয় ।

২. Renal : সরাসরি কিডনী আক্রান্ত হওয়া যেমন: Acute nephritis, RPGN (Rapidly Progressive Glomerulo Nephritis), ATN (Acute Tubular Necrosis)

৩. Post Renal : যদি কোন ভাবে প্রস্রাবের রাস্তায় বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে (পাথর বা অন্য কিছু দ্বারা) কিডনীর কার্যকারিতা নষ্ট হয়, যাকে বলে Obstructive Uropathy.

উল্লেখিত কারণ ছাড়াও চিকিৎসাগত ও Prognosis এর দিক থেকে আকস্মিক কিডনী বিকল বা একুইট রেনাল ফেলিওরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-

১. মেডিকেল রোগের কারনে ৪০-৫৫ ভাগ ।

২. সার্জিকেল বা শল্য রোগের কারণে ১০-১৫ ভাগ ।

৩. অবসটেট্রিক বা ধাত্রী বিদ্যা রোগের কারণে ২৫-৩০ ভাগ ।

আরও জানুনঃ নরমাল ডেলিভারির কত দিন পর হতে স্বামী স্ত্রী  সহবাস করা যায় ? সিজারে বাচ্চা হওয়ার কত দিন পর হতে স্বামী স্ত্রী  সহবাস করা যায় ?

কিডনি ড্যামেজের  মেডিকেল রোগের কারণ সমূহ ?

মেডিকেল রোগের কারণ সমূহের মধ্যে প্রধান কারণগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হল-

  • অতিমাত্রায় ডায়রিয়া ও বমি দ্রুত;
  • অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ;
  • প্রচন্ড গরমে অত্যধিক ঘাম;
  • শরীরের অনেকাংশ আগুনে দগ্ধ;
  • সর্প দংশন;
  • Blood Transfusion Reaction;
  • Rapidly Progressive Glomerulonephritis (কিডনীর ছাঁকনিতে তীব্র প্রদাহ);
  • কিডনীতে ক্ষতিকারক ঔষধের প্রতিক্রিয়া (Drug induce ARF);
  • Septic Abortion গর্ভপাত ও ইনফেকশন ;

আরও জানুনঃ নরমাল ডেলিভারি হওয়ার লক্ষণ কি কি ? প্রসব ব্যথা বা ডেলিভারির ব্যথা কেমন হয় এবং শুরু হওয়ার লক্ষণ সমূহ ?

কিডনি ড্যামেজের কারণ শল্য রোগের কারণ ?

কিডনি ড্যামেজের কারণ শল্য রোগের কারণে আকস্মিক কিডনী ফেলিওর সার্জিকেল বা শল্য রোগের কারন সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো-

  • সড়ক দূর্ঘটনা বা Road Trafic Accident. এর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও ইনফেকশন হয় ।
  •  যান্ত্রিক দূর্ঘটনা বা Machinery accident
  •  অপারেশন পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হার্ট, ফুসফুসসহ বড় বড় অপারেশনের পরবর্তী Post Operative পর্যায়ে ।
  • প্রস্রাবের রাস্তায় বাধাজনিত কারনে যেমন- পাথর, টিউমার, স্ট্রিকচার Urethra প্রস্টেট গ্ল্যান্ড ও ছোট বাচ্চাদের বেলায় জন্মগতভাবে Posterior Urethral Valve থাকার কারণে ।

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় রক্তের চাপ বেড়ে যাওয়া এবং গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হলে কি হয় ? গর্ভাবস্থায় প্রেসার লো হলে করণীয় ?

কিডনি ড্যামেজের ধাত্রী বিদ্যা ও অবসটেট্রেক এর কারণসমূহ ?

  • অবৈজ্ঞানীক পদ্ধতিতে গর্ভপাত করানো ও গর্ভপরবর্তী জটিলতা ।
  • প্রসবের সময়, পূর্বে ও প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও ইনফেকশন হওয়া
  •  প্রসবের সময়, আগে ও পরে-উচ্চ রক্তচাপ, খিচুনী ও শরীরে পানি আসা । যাকে বলা হয় Eclamsia of Pregnancy |

কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ বা আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ার উপসর্গসমূহ ? 

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                       

আকষ্মিক বা একিউট কিডনী বিকল তা যে কারনেই হোক না কেন শরীর খুব দ্রুত অবনতির দিকে চলে যায়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রস্রাবের পরিমান কমে যায় এবং ক্রমান্বয়ে প্রস্রাব তৈরী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে । চব্বিশ ঘন্টার প্রসাবের পরিমান অর্ধ লিটারের নিচে হলে তখন তাকে অলিগিউরিয়া (Oliguria ) বলা হয় এবং ৫০ সিসি-র নীচে হলে তখন তাকে এনিউরিয়া (Anuria )বলে ।

আরও জানুনঃ সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কি ? কত প্রকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে ? সর্বজনীন পেনশন কবে চালু হবে ?

  • সাধারণত: অতিরিক্ত বমি বা এসব কারণে প্রস্রাবের পরিমান হঠাৎ কমে বন্ধ হয়ে যেতে পারে । এ সময় রোগীর নাড়ীর গতি বৃদ্ধি পায়। রক্তচাপ কমে যায় মুখের চামড়ায় পানি শূণ্যতার লক্ষণ চলে আসে যাকে ডিহাইড্রেশন বলা হয়ে থাকে।
  • প্রসাবের রাস্তায় যদি পাথর আটকে যায় অথবা প্রস্টেট বড় হয়ে যায় তার ফলেও প্রস্রাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে । এসব ক্ষেত্রে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং ডিহাইড্রেশনের কোন লক্ষণ থাকে না ।
  • প্রস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হওয়ার কারনে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে প্রসাবের থলিতে প্রস্রাব জমা হতে থাকে এবং তলপেট ফুলে যায় । তলপেট পরীক্ষা করে প্রস্রাবের থলিতে প্রস্রাব জমা আছে কিনা তা বোঝা যেতে পারে ।

প্রসবকালীন জটিলতার কারণে একুইট কিডনী বিকলের লক্ষণ সমূহ ?

প্রসবকালীন জটিলতার কারণে একুইট কিডনী বিকল হলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা যায়ঃ

  • জ্বর;
  • শরীর ফ্যাকাশে হওয়া;
  • বমি এবং রক্তচাপ কমে যায় ;
  • কিডনীর ছাকনীর প্রদাহজনিত কারনে আকস্মিক কিডনী বিকল হলে সম্পূর্ণ শরীর ফুলে যেতে পারে;
  • শরীর ফ্যাকাশে, নিস্তেজ ভাব ও প্রস্রাবের পরিমান কম হয়;
  • রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে অথবা বৃদ্ধি পায়;
  • শরীরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার দরুন রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে পারে ;

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় যে সব ভিটামিন খাওয়া যাবে না এবং কোন ভিটামিন খাওয়া যাবে ?

জীবাণুজনিত ইনফেকশন এবং যে কোন সড়ক বা যান্ত্রিক দূর্ঘটনার কারনে আকস্মিক কিডনী বিকল লক্ষণ সমুহ ?

যে কোন কারনে জীবাণুজনিত ইনফেকশন এবং যে কোন সড়ক বা যান্ত্রিক দূর্ঘটনার কারনে আকস্মিক কিডনী বিকল হলে কিডনী ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যেতে পারে । যেমন:

  • মুখ মন্ডলে ঘা;
  • হলদে চোখ;
  • চামড়ায় বিভিন্ন রকমের রাশ বা প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি ;
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরীর ফুলে যেতে পারে;
  •  প্রস্রাব কমে যায়;
  • রক্তচাপ স্বাভাবিক অথবা কমে যেতে পারে;
  • বিষধর সাপের কামড়;
  • অগ্নিদগ্ধ অথবা ইলেকট্রিক শকের কারনেও আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ার মত মারাত্বক ব্যাধি হতে পারে;
  • আবার রক্ত দেবার সময় সঠিক রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে রক্ত দেয়া না হলেও হতে পারে ;

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কি হয় ?গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় ?

আকস্মিক কিডনী বিকল রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরিক্ষা সমূহ  ?

আকস্মিক কিডনী বিকল সন্দেহ করার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে উপযুক্ত পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন । কেননা আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ার পর প্রতিটি ঘন্টা রোগীর জন্য মূল্যবান । রোগী দেখার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর রোগ সংক্রান্ত ইতিহাস পর্যালোচনা করে কি কারনে কিডনী বিকল হয়েছে তা নিরুপন করা উচিৎ । ত্বরিৎ গতিতে নিম্নলিাখিত পরীক্ষাসমূহ করানো জরুরীঃ

  • রক্তের ইউরিয়া,
  •  ক্রিয়েটিনিন সোডিয়াম,
  • পটাশিয়াম,
  • ক্লোরাইড এবং
  •  বাইকার্বনেট পরীক্ষা করা প্রয়োজন ।

Read more: what is female infertility ? signs & symptoms of female infertility ? what causes female infertility ? one of the leading causes of female infertility ?

সাধারনত: বর্তমানে বড় বড় শহর, মেডিকেল কলেজগুলোতে অথবা বেসরকারী প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে এ ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে । ঢাকায় যে কোন সময় এ ধরনের পরীক্ষা করানো যেতে পারে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ডায়াবেটিক হাসপাতাল (বারডেম), সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল সংলগ্ন ল্যাবরেটরি এবং মহাখালী কলেরা হাসপাতাল এ ধরনের পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । এই পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে কিডনীর কার্যকারিতা কতখানি লোপ পেয়েছে তা নির্ণয় করা যায় এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে তা বিরাট অবদান রাখতে সক্ষম হয় ।

সুতরাং পরীক্ষা ছাড়া আকস্মিক কিডনী বিকলের চিকিৎসা কোন পর্যায়েই করা সম্ভব নয় । যদি রোগীর প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ না হয়ে যায় তা হলে সযত্নে প্রস্রাব সংগ্রহ করে তা তাৎক্ষনিকভাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো প্রয়োজন । প্রস্রাবে অ্যালবুমিন, সুগার ছাড়াও অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে শ্বেত কণিকা, লোহিত কণিকা এবং কাস্ট আছে কিনা তা দেখা দরকার । কেননা প্রস্রাব পরীক্ষা করে আমরা কিডনীর ছাকনীর প্রদাহজনিত রোগ থেকে অন্য কারণে আকস্মিক কিডনী বিকল হয়েছে কিনা তা আলাদা করতে পারি ।

আরও জানুনঃ ওভুলেশন কি ? ওভুলেশন কিভাবে হয় ? ডিম্বাণু কত দিন জীবিত থাকে|গর্ভধারণের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সময় বোঝার উপায় ?

উন্নত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে প্রস্রাব পরীক্ষা করে প্রস্রাবে কি পরিমাণ ইউরিয়া, সোডিয়াম বা পটাসিয়াম যাচ্ছে তা নিরুপন করে রাখা হয় । পরবর্তী পর্যায়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাগুলো বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয় । এ ছাড়াও আলট্রাসনোগ্রাম দ্বারা কিডনীর আকৃতি, পাথর জনিত কারণ, প্রস্টেটজনিত কারণ নিরুপণ করা হয় । ৪০ বছরের উপরে বুকের এক্সরে, ইসিজি বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজন পরে । এমনকি রক্তের হিমোগ্লোবিন, শ্বেত, কণিকার পরিমান অনুচক্রিকা (প্লাটিলেট) এর পরিমান রক্তক্ষরণের অস্বাভাবিকতা ও লিভার ফাংশন পরীক্ষা করার প্রয়োজন পরে । এই সমস্ত পরীক্ষা করার পরেও আকস্মিক কিডনী বিকল অবগত হওয়ার জন্য আরও বিশেষ ধরনের পরীক্ষার প্রয়োজন পড়তে পারে যা কেবলমাত্র উন্নত ল্যাবরেটরিতেই করা সম্ভব । যেমন: কারো কারো বেলায় রক্তের C3, C4, ANF, Anti ds DNA, ANCA ইত্যাদি পরীক্ষা প্রয়োজন সাপেক্ষে করানো হতে পারে । অনেক সময় কিডনীর বায়োপসি (Biopsy) করার দরকারও হয় । বিশেষ করে যে সমস্ত রোগীর Acute Nephritis অথবা RPGN এর কারণে আকস্মিক কিডনী বিকল হয়েছে বলে ধারণা করা হয় ।

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় রক্তের চাপ বেড়ে যাওয়া এবং গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হলে কি হয় ? গর্ভাবস্থায় প্রেসার লো হলে করণীয় ?

আকস্মিক কিডনী বিকল চিকিৎসা ও প্রতিকার ?

কি কারণে রোগীর আকস্মিক কিডনী বিকল হয়েছে তার উপরই চিকিৎসা ঠিক করা হয় ।

  • Gastro Enteritis and Acute Kidney Failure (ডায়রিয়া ও একুইট কিডনী ফেলিওর) আমাদের দেশে শতকরা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, শিগেলা জনিত ডিসেন্ট্রির কারণে এই রোগ হয়ে থাকে । জানা থাকলে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে কিডনী বিকল হওয়ার পরও সম্পূর্ন সুস্থ করা সম্ভব । এই সময়ে রোগীকে ওরস্যালাইন অথবা গুড় লবণ পানির শরবত খাওয়াতে হয় । সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার পানি ফলের রস খেতে পারে ।
  • বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানা বন্ধ করার জন্য কোন ওষুধের প্রয়োজন হয় না । আইভি স্যালাইন দিতে হয় । বাড়ীতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারলে এই সময় রোগীকে অতিসত্তর নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণ করা প্রয়োজন ।

এই অতি সাধারণ অসুখেই বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষ রোগী মৃত্যুবরণ করে । অথচ সময়মত সঠিক চিকিৎসায় এদের সবাইকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব। একইভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, বমন, যানবাহন ও যান্ত্রিক দূর্ঘটনা এবং অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় আকস্মিক কিডনী বিকল হয়ে থাকে । অগ্নিদগ্ধের কারণে প্রয়োজন পরে স্যালাইন এবং প্লাজমার । এ ধরনের রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট এবং উন্নততর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয় । এই ধরনের রোগীদেরকে জীবাণুর আক্রমন থেকে রক্ষা করার জন্য সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রোগী রাখা ছাড়াও প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের দরকার পরে ।

আরও জানুন: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম কি ? পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম লক্ষণ ?

উপরোক্ত যে সমস্ত কারণে আকস্মিক কিডনী বিকল হয়ে এদের বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে রক্তের চাপ কমে যাওয়ার দরুন কিডনীর জৈব এবং অজৈব অপ্রয়োজনীয় পদার্থগুলো শরীর থেকে বের করে দিতে ব্যর্থ হয় । যার ফলে শরীরে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ জমা হতে থাকে এবং রক্তে অতি প্রয়োজনীয় লবণ পটাশিয়াম এবং ক্ষার জাতীয় পদার্থের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। রক্তে লবণের পরিমান ১১৫ মিলি ইকোয়িভালন্ট পার লিটার এর নিচে গেলে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে । ঠিক তেমনি শরীরের পটাশিয়াম ২ মিলি ইকোয়িভালন্ট পার লিটারে এর নিচে নেমে গেলে শরীর নিস্তেজ হয়ে অবশ হয়ে যেতে পারে ।

অন্যদিকে শরীরে পটাশিয়াম বেশী পরিমান জমে গেলে (৬.৫ মিলি ইক্যুইভেলেন্ট পার লিটার এর উপরে) হৃদপিন্ডের কাজ শেষ হয়ে যেতে পারে । রক্তে ক্ষারের পরিমান অতিরিক্ত কমে গেলে (১৪ মিলি ইকোয়িভালন্ট পার লিটার এর নীচে) ত্বরিত গতিতে শ্বাস প্রশ্বাস চলতে থাকে । সুতরাং চিকিৎসা পদ্ধতির প্রধান দিকই হলো শরীরের জলীয় পদার্থ পূরণ ছাড়াও রক্তের লবন পটাশিয়াম ও ক্ষার নিয়ন্ত্রনের মধ্যে পুরণ করার ব্যবস্থা । আর সেই জন্যই আকস্মিক কিডনী বিকল হয়ে গেলে এর চিকিৎসা ভাল কোন হাসপাতালে করা প্রয়োজন । অবশ্য এসব রোগ সম্পর্কে যদি মানুষের সচেতনতা থাকে তবে নিকটাত্বীয়-স্বজন রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার লক্ষে সঠিক পদক্ষেপটি গ্রহন করে নিকটস্থ চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে । সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারলে আকস্মিক কিডনী বিকল হওয়ার পূর্বেই রোগীকে নিরাময় করা সম্ভব ।

আরও জানুনঃ টেস্ট টিউব বেবি কি ? টেস্ট টিউব বেবি কিভাবে হয় ? এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি কাকে বলে এবং এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি কেন হয় ?

প্রশ্নঃ কিডনির সমস্যা হলে কোথায় কোথায় ব্যথা হয় ?

কিডনির সমস্যা হলে পাঁজরের নিচের অংশে অনুভূত ব্যথা হয় । কিডনীর সমস্যার কারণে ব্যাথা হলে ব্যথা নড়াচড়া করে এবং কোমরের দুই পাশেও যেতে পারে।েএকটু পর পর এই ব্যাথা উঠতে পারে, শুয়ে বা বসে কোন অবস্থায় আরাম মিলবে না এবং শরীরে পানি আসে, শরীর দর্বল, অরুচি এবং বমি বমি ভাব দেখা যায় ।

প্রশ্নঃ কিডনি নষ্ট হওয়ার মূল কারণ কি?

  • পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করা;
  • দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা;
  • খাবারে বেশি পরিমাণ লবণ খাওয়া;
  • ক্যাফেইনে বেশি পরিমাণে আসক্তি;
  • ব্যথানাশক ওষুধের প্রতি নির্ভরশীলতা;
  • বেশি প্রোটিন খাওয়া;
  • অ্যালকোহলে পানকরার আসক্তি;
  • ধূমপানে করা ;
  • সর্দি-কাশিকে পাত্তা না দেওয়া;
  • রাত জেগে থাকা;

আরও জানুনঃ মেয়েদের ডিম্বাণু বড় করার উপায় ? কি কি খাবার খেলে ডিম্বাণু বড় হয় ?

শেষ কথাঃ কিডনী মানব শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনী বিকল হলে মৃত্যু অবধারিত। সুতরাং কিডনী ড্যামেজের কারণ সম্পর্কে সতেচতন থাকতে হবে এবং লক্ষণ সমূহ ;দেখা গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডিসক্লেইমার: এখানে উপরোক্ত হেলথটিপস এবং পরামর্শগুলি অনুসরণ করার পূর্বে , ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।

Leave a Reply