গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কি হয় ?গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় ?

infertilityorg

infertility & Health tips এর আপডেট তথ্য পেতে google news” অনুসরণ করুন

Table of Contents

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস(Diabetes in pregnancy) ?


গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে মা ও তার গর্ভের সন্তানের অনেক জটিলতা হতে পারে। মায়ের জটিলতাগুলোর মধ্যে এবরশন বা গর্ভপাত এবং এর জটিলতা, ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, গর্ভের বাচ্চার চারিদিকে থাকা পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া (Polyhydranios), সিজারিয়ান অপারেশনের আধিক্য এবং এ সংক্রান্ত জটিলতা, সন্তান বেশি বড় হয়ে গেলে ডেলিভারির সময় অসুবিধা, মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি ।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস জন্মের পর বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলে ?


শিশুর জটিলতার:
• অধিক সংখ্যায় সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়া ।
• জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ,
• মায়ের পেটে মরে যাওয়া,
• অধিক ওজনের কারণে ডেলিভারির সময় বিভিন্ন যখম হওয়ার সম্ভাবনা,
• জন্মের পর জন্ডিস হওয়া,
• রক্তের ক্যালসিয়াম, সুগার কমে যাওয়া ইত্যাদি।

• একজন রোগী যিনি ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন, তার চিকিৎসা অবশ্যই পেটে সন্তান আসার আগেই শুরু করতে হবে । কারণ ডায়াবেটিসের জন্য সন্তানের জন্মগত ত্রুটি সন্তান পেটে আসার প্রথম ৮ সপ্তাহের মধ্যেই বেশি হয়ে থাকে । তাই সন্তান নেয়ার আগেই রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

আরও জানুনঃ ডায়াবেটিস কি ? ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায় বা ডায়াবেটিস কমানোর উপায় ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায়
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায়

কোন কোন ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ঝুঁকিতে আছে ?

যে সব ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস আছে কিনা তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে, তা হলো :
১. বাবা-মা, ভাই-বোনের এই রোগ থাকলে ।
২. কেউ যদি বেশি মোটা হন ।
৩. প্রস্রাবের সাথে দুই বা ততোদিক সময়ে সুগার যাওয়া ।
৪. পূর্বে কোন জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশুর জন্য হওয়া
৫. যদি পূর্বে বেশি ওজনের (৩.৫ কেজির বেশি) বাচ্চার জন্ম হওয়া ।
৬. কোন বাচ্চা মরা হলে বা জন্মের পরপর মারা গেলে (মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে না পারা) ইত্যাদি ।

আরও জানুনঃ লটকন কি ? লটকনের উপকারিতা ? লটকন গর্ভাবস্থায় লটকন এর উপকারিতা ?

ডায়াবেটিস কত হলে বিপদ ? গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় ?


রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণের ওপরই ডায়াবেটিস আছে এমন প্রেগনেন্সির ফলাফল নির্ভর করে। যাদের রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ নিম্নমানের, তারা নিম্নমানের ফলাফলই আশা করতে পারেন । যাদের রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ মধ্যম মানের, তারা মধ্যম ফলাফল আশা করতে পারেন। আর যাদের রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ উত্তম মানের, তারা অবশ্যই উত্তম ফলাফল আশা করতে পারেন । আমি আমার রোগীদের অবশ্যই বলে থাকি যে “সুগার হলো বাচ্চার জন্য বিষ” । কোনো মা জেনেশুনে তার গর্ভের সন্তানকে বিষ দিতে পারেন না। তবে আশার কথা হল যে, গর্ভবস্থায় ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ডাক্তার, রোগী ও রোগীর আত্মীয়স্বজন একটি টিমে কাজ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো ফলাফল পাওয়া যায় ।, ডায়াবেটিস রোগীকে নিজেই নিজের চিকিৎসক হতে হবে । একজন ডাক্তার শুধু পরামর্শকের ভূমিকা পালন করবেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রথমে একটি পরিকল্পিত খাদ্যতালিকা মেনে চলতে হবে । কিছু কিছু ক্ষেত্রে এতেই সুগার নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে ।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ডায়েট চার্ট বা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার ?

নিম্নে খাদ্যতালিকা দেওয়া হলোঃ

Read more: what is female infertility ? signs & symptoms of female infertility ? what causes female infertility ? one of the leading causes of female infertility ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার সকালের নাস্তা ?

  • রুটি ২টি
  • ডিম ১টা (কুসুম ছাড়া)
  • চা (চিনি ছাড়া)
  • তরকারি (সিদ্ধ/রান্না করা), ভাজি করা নয় ।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার সকাল ১১টা ?

  • মুড়ি বা খই বা টোস্ট ইত্যাদি মিষ্টি ছাড়া কোন বিস্কুট বা নাস্তা
  • ১ গ্লাস দুধ

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার দুপুর ?

  • মুড়ি বা খই বা টোস্ট ইত্যাদি
  • মিষ্টি ছাড়া কোন বিস্কুট বা নাস্তা ।

Read More: what is polycystic ovary syndrome (pcos) & types of pcos ? how to get rid of polycystic ovary syndrome cure naturally ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার রাত ৯টা ?

  • রুটি ২টা বা ভাত ২ কাপ
  • মাছ বা মাংস (চর্বি ছাড়া)
  • প্রচুর শাক-সবজি (লাবড়া)
  • সালাদ
  • ডাল ।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার রাত ১১টা ?

  • দুধ ১ গ্লাস ।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস  রোগীর কোন কোন খাবার নিষেধ

  • আলু
  • মিষ্টি
  • চিনি ৷

আরও জানুনঃ ওভুলেশন কি ? ওভুলেশন কিভাবে হয় ? ডিম্বাণু কত দিন জীবিত থাকে|গর্ভধারণের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সময় বোঝার উপায় ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে করণীয় যা করবেনঃ

  • হাঁটবেন প্রতিদিন ৪৫ মিনিট
  • অন্য কোন ব্যায়াম করবেন

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কোন কোন সময় পরীক্ষা করা উচিত ?


প্রত্যেক রোগীকে সপ্তাহে অন্তত দুবার নিম্নলিখিত সময়ে রক্তের সুগার
পরীক্ষা করতে হবে ।
১. সকালে খাওয়ার পূর্বে ।
২. নাস্তা খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ।
৩. দুপুরের খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ।
৪. রাত্রে খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ।

আরও জানুন: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম কি ? পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম লক্ষণ ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয় ?


পরিকল্পিত খাদ্যতালিকা অনুসরণ করার পরও যদি রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে ইনজেকশন ইনসুলিন ( Injection Insulin) নিতে হবে। খাদ্যতালিকা অনুসরণ বা খাদ্যতালিকা অনুসণের সাথে ইন্সুলিন নেওয়া, যেভাবেই সুগার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবেন না কেন আপনার রক্তের সুগার যেন উপরোক্ত সময়গুলোতে ৫-৭ এর মধ্যে থাকে । তাহলে আপনি মনে করতে পারবেন যে আপনার সুগার ভালো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে ।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করে ?


প্লাসেন্টা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের ভ্রূণের মস্তিষ্ক থেকে রক্ত প্রবাহকে দূরে সরিয়ে দেয়। একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের ভ্রূণের বিকাশের মস্তিষ্কের চেয়ে সাধারণত প্লাসেন্টায় বেশি রক্ত প্রবাহিত হয়।

আরও জানুনঃ টেস্ট টিউব বেবি কি ? টেস্ট টিউব বেবি কিভাবে হয় ? এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি কাকে বলে এবং এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি কেন হয় ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কি হয় ?


গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণে আপনার শিশুর শরীরে যে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি হয়ে আসছিল তার কারনের শিশুর জন্মের পর তার রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে। ফলে জন্মের কিছুদিন পর শিশুর জন্ডিস হতে পারে আবার শ্বাসকষ্ট ও হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় খাওয়ার আগে রক্তে শর্করার পরিমাণ কত ?


গর্ভাবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা মহিলাদের জন্য আমরা নিম্নলিখিত লক্ষ্যের পরামর্শ দিই: খাওয়ার আগে: 95 mg/dl বা তার কম । খাবারের এক ঘণ্টা পর: 140 mg/dl বা তার কম। খাবারের দুই ঘন্টা পর: 120 mg/dl বা তার কম।

আরও জানুনঃ মেয়েদের ডিম্বাণু বড় করার উপায় ? কি কি খাবার খেলে ডিম্বাণু বড় হয় ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস জন্মের পর বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলে ?


শিশুর অগ্ন্যাশয় দ্বারা তৈরি অতিরিক্ত ইনসুলিনের কারণে, নবজাতকের জন্মের সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কম থাকতে পারে এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও বেশি থাকে। অতিরিক্ত ইনসুলিন নিয়ে জন্মানো শিশুরা স্থূলতার ঝুঁকিতে থাকা শিশু এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের পরিণত হয়।

ডিসক্লেইমার: এখানে উপরোক্ত হেলথটিপস এবং পরামর্শগুলি অনুসরণ করার পূর্বে , ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।

রিলেটেড ট্যাগঃ গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে কি হয়?,গর্ভাবস্থায় খাওয়ার আগে রক্তে শর্করার পরিমাণ কত,গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস জন্মের পর বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলে,গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করে,গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ডায়েট চার্ট, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস এর লক্ষন, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায়, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার,গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় ?

Leave a Reply