আলট্রাসনোগ্রাফি কি এবং এর উপকারিতা কি কি ?সন্তান ছেলে বা মেয়ে হওয়ার জন্য দায়ী কে ?

পোস্ট সামারীঃ

  • সন্তান ছেলে বা মেয়ে হওয়ার জন্য দায়ী কে ?
  • আলট্রাসনোগ্রাফি কি এবং এর উপকারিতা কি কি ?
  • আলট্রাসনোগ্রাফি কি ?
  • আলট্রাসনোগ্রাফি এর উপকারিতা কি কি?
  • আলট্রাসনোগ্রাফি করার নিয়ম ?
  • পেটের আল্ট্রাসনোগ্রামের আগে আমি কি খেতে বা পান করতে পারি ?
  • আলট্রাসনোগ্রাম কি খালি পেটে করতে হয় ?

infertility আপডেট তথ্য পেতে google news” অনুসরণ করুন।

সন্তান ছেলে বা মেয়ে হওয়ার জন্য দায়ী কে ?

আলট্রাসনোগ্রাফি কি
আলট্রাসনোগ্রাফি কি

সন্তান ছেলে বা মেয়ে হয় কিভাবে হয় :

আমাদের দেহের ক্ষুদ্রতম ইউনিটকে কোষ বলে। প্রত্যেকটি কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে নিউক্লিয়াস । এই নিউক্লিয়াসে থাকে ক্রমোজম নামক এক প্রকার জিনিস । স্ত্রীর ডিমগুলো একই ধরনের ক্রমোজম বিশিষ্ট হয়। এদের প্রত্যেকটিতে সাধারণত ২৩+X ক্রমোজম থাকে। অন্যদিকে পুরুষের শুক্রাণু দুই রকমের ক্রমোজম বিশিষ্ট হয়। এদের ১টিতে ২৩+X ক্রমোজম থাকে । আর অন্যটিতে ২৩+Y ক্রমোজম থাকে। ২৩+Y ক্রমোজম বিশিষ্ট একটি শুক্রাণু যদি একটি ডিম্বের সাথে যুক্ত হয় তবে, শুক্রাণু-সংযুক্ত ডিম্বের ক্রমোজম সংখ্যা দাঁড়াবে (২৩+X+২৩+Y) ৪৬XY তে । আর তখন সন্তানটি হবে একটি ছেলে । অন্যদিকে যখন ১টি শুক্রাণু যার মধ্যে রয়েছে ২৩+X ক্রমোজম, সেটি যদি একটি ডিম্বের সাথে যুক্ত হয়, তবে শুক্রাণু-সংযুক্ত ডিম্বের ক্রমোজম সংখ্যা দাঁড়ায় (২৩+X+23 X) = ৪৬XX, আর এর ফলে সেই শুক্রাণু সংযুক্ত ডিম্বটি রূপ লাভ করে ১টি মেয়ে শিশুতে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, ছেলে বা মেয়ে হওয়াটা শুক্রাণুর প্রকার ভেদের ওপর নির্ভর করে । এটা ভাগ্যের ব্যাপার । কারণ কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বের সাথে যুক্ত হবে, তা বলা বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এবং এতে স্বামী বা স্ত্রী কারো কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না ।

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় কি কি সমস্যা হয় ? গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস কি ? মর্নিং সিকনেসে স্ত্রীর চিকিৎসা ?

আলট্রাসনোগ্রাফি কি এবং এর উপকারিতা কি কি?

আলট্রাসনোগ্রাফি কি ?

আলট্রাসনোগ্রাফি একটা মেশিন- যাতে এক ধরনের শব্দতরঙ্গের ব্যবহার থেকে ছবি তৈরি করা হয় । এই শব্দতরঙ্গগুলোর গতিবেগ খুবই দ্রুত বিধায় আমরা আমাদের কানে শুনতে পাই না । আর এই সব ছবি দেখেই আমরা কোথায় কি আছে তা বলতে পারি । বর্তমান যুগে আলট্রাসনোগ্রাফি ছাড়া প্রসূতিবিদ্যার অনেকটাই অচল ।

আলট্রাসনোগ্রাফি এর উপকারিতা কি কি ?

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় যে সব ভিটামিন খাওয়া যাবে না এবং কোন ভিটামিন খাওয়া যাবে ?

আল্ট্রা সাউন্ড গর্ভাবস্থায় একটি নিরাপদ পরীক্ষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ।

এই মেশিন দ্বারা নিম্নলিখিত বিষয়াদি দেখা বা বলা যায় ।

১. আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্র দ্বারা বাচ্চার ছবি দেখা গেলেই কেবল নিশ্চিন্তভাবে বলা যায় যে, একজন মহিলা গর্ভবতী হয়েছেন ।

২. বাচ্চার হৃৎপিণ্ডের নড়াচড়া নিশ্চিতভাবে বলে দেয় যে সন্তান জীবিত আছে ।

৩. গর্ভের সন্তানের বয়স নির্ধারণ করায় এর রয়েছে এক কার্যকর ভূমিকা । প্রায় এক তৃতীয়াংশ গর্ভবতী মহিলা সঠিকভাবে তাদের শেষ মাসিকের তারিখ বলতে পারেন না । যারা বলতে পারেন তাদের অনেকে সঠিক মাস বলতে পারেন না। আর যাদের মাসিক নিয়মিত নয়, তাদের বেলায় তো সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার তারিখ নির্ণয়ে ডাক্তারদের রীতিমতো হিমসিম খেতে হয়। আলট্রাসনোগ্রাফি গর্ভের সন্তানের বয়স নির্ধারণে অত্যন্ত একটি কার্যকর পদ্ধতি । গর্ভবতী মায়েদের সেবায় বাচ্চার সঠিক বয়স জানা অত্যন্ত জরুরী বিষয় ।

আরও জানুনঃ গর্ভবতী মায়ের যত্ন কি কি এবং গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের সতর্কতা ? গর্ভবতী মায়ের কি কি চেকআপ করা দরকার ?

৪. এই যন্ত্র দ্ধারা গর্ভফুলের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় ।

 ৫. গর্ভের বাচ্চার ওজন মোটামুটি সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় ।

৬. গর্ভের সন্তানের চারিদিকে অবস্থিত পানির পরিমাণ, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের নড়াচড়া ইত্যাদি রেকর্ড করে গর্ভের সন্তানের অবস্থা কেমন আছে তা বলা যায় ।

৭. বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি, জমজ বাচ্চা, জোড়া লাগানো বাচ্চা ইত্যাদি নির্ণয় করা যায় ।

আলট্রাসনোগ্রাফি করার নিয়ম ?

পেটের আল্ট্রাসনোগ্রামের আগে আমি কি খেতে বা পান করতে পারি ?

  •  আপনি যদি আপনার পরীক্ষার 6 ঘন্টার মধ্যে কিছু খান তবে আল্ট্রাসাউন্ড চিত্রগুলিতে আপনার গলব্লাডার স্বাভাবিক নাও দেখা যেতে পারে। আপনার উপবাসের সময়, আপনি কালো কফি, চা এবং জলের মতো পরিষ্কার তরল পান করতে পারেন। চর্বি বা চিনি আছে এমন কিছু পান করবেন না।

আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় বা প্রেগনেন্ট হলে নারীর শরীরের পরিবর্তন বা লক্ষণ দেখা যায় ?

আলট্রাসনোগ্রাম কি খালি পেটে করতে হয় ?

  • গর্ভাবস্থায় ১০-১৪ সপ্তাহের আলট্রাসনোগ্রাম এর জন্য ১ ঘন্টা আগের হাফ লিটার পানি অথবা তরল খাবার খাওয়া দরকার।
  • এই  টেষ্টের আগে প্রচুর পরিমাণ প্রসাবের বেগ থাকতে হয়।
  • এত পেটের বাচ্চার তথ্যগুলো সঠিকভাবে দেখা যায়।.
  • আর যদি যোনিপথের আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য প্রসাব করে আসতে হয়ে।

আরও জানুনঃ প্রসব পরবর্তী বিপদ চিহ্ন বা প্রসব পরবর্তী জটিলতা ? নবজাতকের বিপদ চিহ্ন কয়টি ও কি কি?

আলট্রাসনোগ্রাফি করলে বাচ্চার ক্ষতি হয় কিনা বা আল্ট্রাসনোগ্রাফির ক্ষতিকর দিক ?

গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাধারণত কোন ক্ষতিকর দিক নেই।

গর্ভাবস্থায় আলট্রাসনোগ্রাম কতবার করা যায় ?

সঠিক কোন নিয়ম নেই গর্ভাবস্থায় কতবার আলট্রাসোনোগ্রাম করতে হবে। তবে সাধারণত তিনবার এ টেস্টের করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

আলট্রাসনোগ্রাম করাতে কেমন খরচ পড়ে ?

 # সরকারি- বেসরকারি হাসপাতাল অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

# সরকারি Hospital ৫০০-৭০০ টাকায় প্রেগনেন্সির পরীক্ষা করা হয়।
# প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ডাক্তার ভেদে ১০০০-১৩০০ টাকা খরচ হতে পারে।
অন্য কোন বিষয়ে টেস্ট এর জন্য আলট্রাসেনোগ্রামের খরচ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

Leave a Reply