পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম কি ? পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম লক্ষণ ? পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা ?
আজকের যুগে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS নারীদের একটি বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত বাড়ছে। এর মূল প্রভাব পড়ে মাসিক চক্র, প্রজনন ক্ষমতা, হরমোনের ভারসাম্য ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রজননক্ষম নারীদের প্রায় 10–15% এই সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার আরও বেশি।
পোস্ট সামারীঃ
- পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় বাংলা অর্থ ?
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম কি ?
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম লক্ষণ ?
- পলিসিস্টিক ওভারি কেন হয় ?
- পলিসিস্টিক ওভারি চিকিৎসা বা পলিসিস্টিক ওভারি সারানোর ঘরোয়া চিকিৎসা ?
- পলিসিস্টিক ওভারি ভালো হলে কি বাচ্চা হবে ?
To get latest update news form “ google news” about infertilities .
পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় বাংলা অর্থ ?
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় (পিসিওএস) হচ্চে মেয়েদের মধ্যে ছেলেদের হরমোন যথা অ্যান্ড্রোজেন পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। পিসিওএস হরমোনজিনিত রোগ।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম কি ?
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হচ্ছে এইরকম ১টি অবস্থা, যেখানে নারীর ডিম্বাশয়ের পুরুষ হরমোন (এন্ড্রোজেন) সৃষ্টি করে। স্বাভাবিক অবস্থায় যা অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণেই নিঃসৃত হয়। পলিসিস্টিক ওভারিতে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট থাকে। এ পরিস্থিতিতে একজন মহিলার ওভুলেশন করার জন্য পর্যাপ্ত হরমোন থাকে না। ফলে ওভুলেশন না হওয়ার জন্য ছোট ছোট সিস্ট সৃষ্টি হয়। এ সিস্টগুলো এন্ড্রোজেন নামক হরমোনটি প্রস্তুত করে। এর ফলে মেয়েদের মাসিকও বিলম্বিত হয় কিংবা বেশি অধিক হয়।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম লক্ষণ ?

- অবাঞ্ছিত লোম,
- ব্রণ,
- মাসিক অনিয়মিত হওয়া;
- মুখ তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া,
- ঘাড়ে কালো দাগ,
- চুল পড়ে যাওয়া,
- ওজন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
- ডায়াবেটিস
- হাই প্রেসার
- এর রিজন সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট আন্দাজ পাওয়া যায়নি। এর ফলে নারীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। ফলে শরীর ইনসুলিনকে প্রয়োগ করার জন্য পারে না।
আরও জানুনঃ গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা এবং গর্ভবতী মায়ের খাবার ?
পলিসিস্টিক ওভারি কেন হয় ?
- এটি জেনেটিক্যালি বাহিত হতে পারে।
- পরিবারের বোন বা মায়ের থাকলে কন্যারও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম( পিসিওএস) সমস্যা হতে থেকে পারে।
- পরিবেশগত কারণ;
- শারূরিক শ্রম কম করা;
- খাদ্যভাস সঠিক না হওয়া;
- ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের প্রতি বেশি আকর্ষণ ;
- অত্যধিক ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া;
- অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন;
- মানসিক চাপ।
পলিসিস্টিক ওভারি চিকিৎসা বা পলিসিস্টিক ওভারি সারানোর ঘরোয়া চিকিৎসা ?

সবুজ পাতা জাতীয় সবজি খাওয়াঃ
সবুজ পাতা জাতীয় সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লোহা, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন কে,সি, ই এবিং বি। ভিটামিন বি পিসিওএস প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত ফল খাওয়াঃ
ফলে fiber, vitamins, minerals and phytonutrients রয়েছে। যে সব ফলে Glycemic index কম যেমন- আপেল, কলা,আঙুর, আম, চেরি, পেয়ারা,নাশপাতি কমলা ইত্যাদি।
রঙ্গিন ফল খাওয়াঃ
রঙ্গিন ফলে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দূর করে , এটি পিসিওএস রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ফ্যাটঃ
বাদাম, অলিভ অয়েল, ডিম, মাছ , পিনাট বাটার, অ্যাভোকাডো ভাল ফ্যাটের উৎস যা শরীরের হরমোন ভারসাম্য রক্ষা , ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বাড়ায়।
আরও জানুনঃ গর্ভাবস্থায় বা প্রেগনেন্ট হলে নারীর শরীরের পরিবর্তন বা লক্ষণ দেখা যায় ?
পলিসিস্টিক ওভারি ভালো হলে কি বাচ্চা হবে ?
পলিসিস্টিক ওভারি ভালো হলে মা হওয়া সম্ভব। তবে গর্ভধারণের শুরু থেকে ডাক্তারের পরমর্শে অনুযায়ী সাবধানে থাকতে হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: PCOS কি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য?
উত্তর: না, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রশ্ন: PCOS আক্রান্ত নারীরা কি মা হতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, চিকিৎসা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে।
প্রশ্ন: PCOS কি কিশোরীদেরও হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, কৈশোরকাল থেকেই শুরু হতে পারে।
উপসংহার
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম আজকের দিনে নারীদের জন্য একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের পরিবর্তন ও চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে গর্ভধারণসহ স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। তাই কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রিলেটেড ট্যাগ:
পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় বাংলা অর্থ ?,পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম কি ?,পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম লক্ষণ ?,পলিসিস্টিক ওভারি কেন হয় ?, পলিসিস্টিক ওভারি চিকিৎসা বা পলিসিস্টিক ওভারি সারানোর ঘরোয়া চিকিৎসা ?, পলিসিস্টিক ওভারি ভালো হলে কি বাচ্চা হবে ?