Table of Contents
পুরুষের বীর্যে কতটি শুক্রাণু থাকা স্বাভাবিক ? শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ কী ?
স্বাভাবিকভাবে একজন পুরুষের প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ১৫ মিলিয়নের বা ১.৫ কোটি বেশি শুক্রাণু থাকা উচিত। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান, এবং এই মাত্রার নিচে শুক্রাণুর সংখ্যা থাকলে তাকে “অলিগোস্পার্মিয়া” (oligospermia) বা শুক্রাণু কম বলে ধরা হয় ।
একবার বীর্যস্খলনে সাধারণত ২-৫ মিলিলিটার বীর্য নির্গত হয়, অর্থাৎ গড়ে ৩০ মিলিয়ন থেকে ৭৫ মিলিয়ন বা তারও বেশি শুক্রাণু থাকতে পারে। তবে শুধু সংখ্যা নয়, শুক্রাণুর গতিশীলতা (কমপক্ষে ৪০% চলৎশক্তিসম্পন্ন) এবং আকার-আকৃতিও (কমপক্ষে ১২% স্বাভাবিক) প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষের বীর্যে কতটি শুক্রাণু থাকা স্বাভাবিক ? সংক্ষেপে জেনে নিন ?
সংক্ষেপে:
- শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা এবং গঠন-তিনটি মানদণ্ডই উর্বরতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ১৫ মিলিয়নের বেশি শুক্রাণু স্বাভাবিক।
- পুরো বীর্য নমুনায় গড়ে ৩০-৭৫ মিলিয়ন বা তারও বেশি শুক্রাণু থাকতে পারে।
পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কীভাবে পরিমাপ করা হয় ?
পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা পরিমাপ করার জন্য মূলত বীর্য বিশ্লেষণ পরীক্ষা (Semen Analysis Test) করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বীর্যের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন মানদণ্ডে বিশ্লেষণ করা হয়। নিচে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়ার বিবরণ দেওয়া হলো:
১. নমুনা সংগ্রহ
- সাধারণত হস্তমৈথুনের মাধ্যমে একটি জীবাণুমুক্ত পাত্রে বীর্য সংগ্রহ করা হয়।
- কখনও কখনও বিশেষ কনডম ব্যবহার করে মিলনের সময়ও নমুনা সংগ্রহ করা যেতে পারে
২. পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ
- সংগ্রহ করা বীর্য মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়।
- মূলত নিম্নোক্ত পরামিতিগুলো দেখা হয়:
- শুক্রাণুর সংখ্যা (Sperm Count/Concentration)
শুক্রাণুর সংখ্যা বলতে প্রতি মিলিলিটার বীর্যে কতটি শুক্রাণু আছে, তা বোঝানো হয়। এটি পুরুষের উর্বরতা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। - সাধারণত, প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ১৫ থেকে ২০০ মিলিয়ন শুক্রাণু থাকা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়।
- যদি শুক্রাণুর সংখ্যা প্রতি মিলিলিটারে ১৫ মিলিয়নের কম হয়, তাহলে সেটিকে কম শুক্রাণু (oligospermia) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- শুক্রাণুর সংখ্যা একেবারেই না থাকলে তাকে azoospermia বলা হয়।
- টেবিল: শুক্রাণুর স্বাভাবিক মাত্রা:
| ক্যাটাগরি | প্রতি মিলিলিটার স্বাভাবিক সংখ্যা |
| স্বাভাবিক | ১৫-২০০ মিলিয়ন |
| কম (Oligospermia) | ১৫ মিলিয়নের কম |
| নেই (Azoospermia) | ০ |
- গতিশীলতা (Motility): কত শতাংশ শুক্রাণু কার্যকরভাবে চলতে পারে, তা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত কমপক্ষে ৪০% শুক্রাণুর ভালো গতিশীলতা থাকা দরকার।
- আকৃতি ও গঠন (Morphology): শুক্রাণুর স্বাভাবিক আকার ও গঠন কত শতাংশ, সেটাও দেখা হয়। সাধারণত ৪% বা তার বেশি স্বাভাবিক গঠনবিশিষ্ট শুক্রাণু থাকা দরকার।
- বীর্যের মোট পরিমাণ (Volume): একবার বীর্যপাতের সময় কত মিলিলিটার বীর্য নির্গত হচ্ছে, সেটাও মাপা হয়।
৩. ফলাফল বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন
- পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ থাকে প্রতি মিলিলিটার বীর্যে মোট শুক্রাণুর সংখ্যা, মোট শুক্রাণুর সংখ্যা, চলমান শুক্রাণুর শতাংশ, স্বাভাবিক আকৃতির শুক্রাণুর হার ইত্যাদি.
- এই রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক পুরুষের উর্বরতা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা পান এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা পরামর্শ দেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয়
- কখনও হোম স্পার্ম টেস্ট কিটও ব্যবহার করা যায়, তবে ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত ফলাফল দেয়।
সংক্ষেপে:
পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য বীর্য বিশ্লেষণ পরীক্ষা করা হয়, যেখানে নমুনা সংগ্রহের পর ল্যাবে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা, গঠনসহ নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়, এবং তার ভিত্তিতে উর্বরতা নির্ধারণ করা হয়।
বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কতটা পরিবর্তিত হতে পারে ?
পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনযাপনের উপর নির্ভর করে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত পুরুষের বীর্যে কতটি শুক্রাণু থাকা স্বাভাবিক প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ১৫ মিলিয়ন (১.৫ কোটি) থেকে ২০০ মিলিয়ন বা তারও বেশি শুক্রাণু থাকতে পারে। আদর্শভাবে, প্রতি বীর্যপাতের জন্য মোট শুক্রাণুর সংখ্যা ৩৯ মিলিয়নের বেশি হওয়া উচিত।
শুক্রাণুর সংখ্যা পরিবর্তনের কারণ কি ?
- বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমে যেতে পারে।
- স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন: মানসিক চাপ, ধূমপান, অ্যালকোহল, স্থূলতা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভাব, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি শুক্রাণুর সংখ্যা কমাতে পারে।
- পরিবেশগত কারণ: দূষণ, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, অতিরিক্ত তাপ ইত্যাদি শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
- মেডিকেল সমস্যা: হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অণ্ডকোষের রোগ, জেনেটিক সমস্যা, সংক্রমণ, প্রজনননালীর ব্লকেজ ইত্যাদিতে শুক্রাণুর সংখ্যা কমতে পারে।
পরিসীমা ও পরিবর্তন
- স্বাভাবিক পরিসীমা: প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ১৫-২০০ মিলিয়ন শুক্রাণু (অনেক ক্ষেত্রে ৩০-৩০০ মিলিয়নও হতে পারে)।
- নিম্ন স্পার্ম কাউন্ট (Oligospermia): প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ১৫ মিলিয়নের কম শুক্রাণু থাকলে।
- শূন্য স্পার্ম কাউন্ট (Azoospermia): বীর্যে কোনো শুক্রাণু না থাকলে।
- গবেষণা অনুযায়ী: ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গড়ে শুক্রাণুর সংখ্যা মিলিলিটারপ্রতি ১০৪ মিলিয়ন থেকে ৪৯ মিলিয়নে নেমে এসেছে, অর্থাৎ সময়ের সাথে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে।
- একজন সুস্থ পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা ব্যক্তি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, এবং এটি ১৫ মিলিয়ন থেকে ২০০ মিলিয়ন বা তারও বেশি হতে পারে। জীবনযাপন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নানা শারীরিক কারণে এই সংখ্যা ওঠানামা করে
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ কী ?

শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণগুলো বহুমাত্রিক এবং এগুলোকে প্রধানত চিকিৎসাগত, জীবনযাপন-সংক্রান্ত ও পরিবেশগত কিছু বিষয়ে ভাগ করা যায়। নিচে প্রধান কারণসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. চিকিৎসাগত কারণ শুক্রাণুর সংখ্যা কমে ?
- ভ্যারিকোসিল (Varicocele): অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়া, যা শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত করে।
- সংক্রমণ: যেমন এপিডিডিমাইটিস, অর্কিটিস, গনোরিয়া, এইচআইভি ইত্যাদি সংক্রমণ শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: টেস্টোস্টেরন, এলএইচ, এফএসএইচ-এর ঘাটতি বা অতিরিক্ততা শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করে।
- জেনেটিক সমস্যা: ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম বা অন্য কোনো জন্মগত জিনগত ত্রুটি।
- ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি।
- অণ্ডকোষে আঘাত বা অস্ত্রোপচার: শারীরিক আঘাত, অস্ত্রোপচার, বা জন্মগত অণ্ডকোষের সমস্যা।
২. জীবনযাপন ও আচরণগত কারণ শুক্রাণুর সংখ্যা কমে ?
- ধূমপান, অ্যালকোহল ও মাদক: এগুলো শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
- স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে শুক্রাণু উৎপাদন কমাতে পারে।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ: দীর্ঘদিনের চাপ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
- অতিরিক্ত গরম বা তাপ: গরম পানিতে গোসল, টাইট অন্তর্বাস, ল্যাপটপ কোলে রাখা ইত্যাদি অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত করে।
৩. পরিবেশগত ও রাসায়নিক কারণ শুক্রাণুর সংখ্যা কমে ?
- দূষণ ও কীটনাশক: পরিবেশে থাকা রাসায়নিক, কীটনাশক, ভারী ধাতু, প্লাস্টিকের রাসায়নিক (BPA) ইত্যাদি শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমিয়ে দেয়।
- বিকিরণ ও টক্সিন: রেডিয়েশন ও ক্ষতিকর টক্সিনের সংস্পর্শ শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
৪. ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ
- কিছু ওষুধ: কেমোথেরাপি, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ইত্যাদি শুক্রাণু উৎপাদন কমাতে পারে।
- হরমোন থেরাপি বা চিকিৎসা: কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।
- শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে চিকিৎসাগত (ভ্যারিকোসিল, সংক্রমণ, হরমোনের সমস্যা, জেনেটিক ত্রুটি), জীবনযাপন (ধূমপান, অ্যালকোহল, স্থূলতা, মানসিক চাপ, তাপ), পরিবেশগত (দূষণ, কীটনাশক, রাসায়নিক) এবং কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা-এই চারটি প্রধান কারণ সবচেয়ে বেশি দায।
শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কোন খাবার সবচেয়ে কার্যকর ?
শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিম, ডার্ক চকোলেট, আখরোট, কুমড়োর বীজ, মাছ (বিশেষত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ), পালং শাক, কলা, ঝিনুক, রসুন, ডালিম ও শতমূলী (অ্যাসপারাগাস)। এসব খাবারে জিঙ্ক, ফোলেট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন সি, ই, বি১২, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোটিন থাকে, যা শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান উন্নত করতে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
নিচে সবচেয়ে কার্যকর খাবারগুলোর তালিকা ও তাদের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা তুলে ধরা হলো:
- ডিম: ডিমে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন ও ভিটামিন ই থাকে, যা শুক্রাণুর গঠন ও গতিশীলতা উন্নত করে এবং কোষকে ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
- ডার্ক চকোলেট: এতে এল-আরজিনিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।
- আখরোট: এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শুক্রাণুর ঝিল্লি শক্তিশালী করে এবং রক্ত চলাচল বাড়ায়।
- কুমড়োর বীজ: জিঙ্ক ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ, যা টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি ও শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক।
- মাছ (স্যামন, সার্ডিন, টুনা): ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শুক্রাণুর গুণমান ও সংখ্যা বাড়ায়।
- পালং শাক: ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা শুক্রাণুর ডিএনএ সুস্থ রাখতে ও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
- কলা: ভিটামিন বি, সি ও ম্যাগনেসিয়াম শুক্রাণুর গতিশীলতা ও উৎপাদন বাড়ায়।
- ঝিনুক: উচ্চমাত্রায় জিঙ্ক থাকে, যা শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়াতে কার্যকর।
- রসুন: সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ, যা অণ্ডকোষে রক্ত চলাচল বাড়ায় ও শুক্রাণু বিকাশে সহায়তা করে।
- ডালিম: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা শুক্রাণুর গুণগত মান উন্নত করে।
- শতমূলী/অ্যাসপারাগাস: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক।
- ডিম, ডার্ক চকোলেট, আখরোট, কুমড়োর বীজ, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ, পালং শাক ও ঝিনুক-এসব খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। এগুলোর মধ্যে ডার্ক চকোলেট ও ডিমকে সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচনা করা হয়, কারণ এগুলো দ্রুত ও বৈজ্ঞানিকভাবে শুক্রাণু বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রমাণিত
ডিম খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায় ?

ডিম খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান বৃদ্ধি পায়-এটি বিভিন্ন গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের মতে প্রতিষ্ঠিত। ডিমে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন, ভিটামিন ই, জিঙ্ক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শুক্রাণুর কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং সক্রিয়তা বাড়ায়।
তবে, ডিম খেলে নির্দিষ্ট কত শতাংশ বা কত মিলিয়ন শুক্রাণু বাড়ে-এমন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা বৈজ্ঞানিক তথ্য বর্তমান গবেষণায় পাওয়া যায় না। অধিকাংশ সূত্রে বলা হয়েছে, ডিম নিয়মিত খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা “উল্লেখযোগ্যভাবে” বাড়ে এবং নিষেকের সম্ভাবনা দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ,
- ডিমের ভিটামিন ই ও জিঙ্ক শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠন উন্নত করে।
- ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি কমিয়ে শুক্রাণুর জীবনকাল বাড়ায়।
- ডিম খেলে শুক্রাণুর সক্রিয়তা ও স্বাস্থ্য উভয়ই ভালো থাকে।
- ডিম খাওয়া শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়াতে কার্যকর, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাগত বৃদ্ধির হার (যেমন ২০%, ৩০% বা নির্দিষ্ট মিলিয়ন) সম্পর্কে বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। নিয়মিত ডিম খাওয়া পুরুষের উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক-এটি গবেষণায় প্রতিষ্ঠ
ডার্ক চকলেট শুক্রাণুর সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায় ?
ডার্ক চকলেট শুক্রাণুর সংখ্যা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর বলে বিশেষজ্ঞ ও গবেষণায় উঠে এসেছে। ডার্ক চকলেটে থাকে এল-আর্জিনিন এইচসিএল নামক অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল, যা শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে এবং শুক্রাণুর কর্মক্ষমতা (গতিশীলতা) উন্নত করতে সহায়তা করে। এই উপাদানগুলো পুরুষের বন্ধ্যাত্ব দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
তবে, ডার্ক চকলেট খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা নির্দিষ্ট কত শতাংশ বা কত মিলিয়ন বাড়ে-এমন নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যান বর্তমান গবেষণায় নেই। অধিকাংশ গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামত বলছে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে (প্রতিদিন ৭০-৮৫% কোকোয়াসমৃদ্ধ ডার্ক চকলেটের ছোট টুকরো) খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান “উল্লেখযোগ্যভাবে” বাড়ে এবং যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
- ডার্ক চকলেট শুক্রাণুর সংখ্যা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাগত বৃদ্ধির হার নিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। নিয়মিত ও পরিমিত ডার্ক চকলেট খেলে পুরুষের উর্বরতা ও যৌন স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে।

আনার খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায় ?
আনার (pomegranate) খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে-এটি একাধিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে প্রমাণিত। আনারে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে পলিফেনল ও ভিটামিন সি থাকে, যা দেহে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে শুক্রাণুর কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং শুক্রাণুর উৎপাদন ও কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে।
গবেষণা ও বাস্তব তথ্য
- যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আট সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন আনারের রস খাওয়ানো হলে শুক্রাণুর গুণগত মান ও সংখ্যা “বহুলাংশে” বেড়ে যায়।
- আনার খাওয়ার ফলে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা ও শুক্রাণুর গতিশীলতা (motility) বৃদ্ধি পায়, যা পুরুষের উর্বরতা বাড়াতে সহায়ক।
- আনারের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষয় রোধ করে ও নতুন শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে।
নির্দিষ্ট সংখ্যা বা শতাংশ
বর্তমানে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আনার খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা “কতটা” (যেমন: শতকরা হার বা নির্দিষ্ট মিলিয়ন) বৃদ্ধি পায়-এমন নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। অধিকাংশ গবেষণা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনার শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান “উল্লেখযোগ্যভাবে” বাড়াতে পারে, তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ নেই।
সংক্ষেপে:
- আনার খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান দুই-ই বাড়ে, বিশেষত নিয়মিত আনার বা আনারের রস খেলে।
- এটি টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি, শুক্রাণুর গতিশীলতা ও যৌন স্বাস্থ্য উন্নত করতে কার্যকর।
- নির্দিষ্ট সংখ্যাগত বৃদ্ধির হার না থাকলেও, চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা পুরুষ উর্বরতা বাড়াতে আনার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
সুতরাং, আনার শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান বাড়াতে কার্যকর, তবে নির্দিষ্ট কতটা বৃদ্ধি পায়-তা নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, শুধু উল্লেখযোগ্য উন্নতির কথা বলা হয়েছে।
কলা খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায় ?
কলা খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। কলায় রয়েছে ভিটামিন A, B1, B6, C, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট এবং ব্রোমেলাইন নামক একটি এনজাইম, যা শুক্রাণু উৎপাদন, গতিশীলতা ও শক্তি বাড়াতে সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা নিয়মিত খেলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ভালো থাকে, যৌন হরমোন বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা দুই-ই উন্নত হয়।
তবে, কলা খেলে নির্দিষ্ট কত শতাংশ বা কত মিলিয়ন শুক্রাণু বাড়ে-এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক সংখ্যা বা পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত হয়নি। অধিকাংশ গবেষণা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলা “উল্লেখযোগ্যভাবে” শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়াতে পারে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাগত তথ্য নেই।
সংক্ষেপে
- কলা শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান বাড়াতে কার্যকর।
- এতে থাকা ভিটামিন ও এনজাইম শুক্রাণুর উৎপাদন ও গতিশীলতা বাড়ায়।
- নির্দিষ্ট সংখ্যাগত বৃদ্ধির হার (যেমন ২০% বা ৩০%) নিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই, তবে নিয়মিত কলা খাওয়া পুরুষ উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
পরামর্শ: প্রতিদিন ১–২টি কলা খাওয়া শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ও সংখ্যা বাড়াতে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন
পালং শাক খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায় ?
পালং শাক খেলে শুক্রাণুর ও মেয়েদের ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পালং শাকে প্রচুর ফোলেট (ফোলিক অ্যাসিড), ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, আয়রন এবং নানা খনিজ থাকে, যা শুক্রাণু উৎপাদন ও কোষ বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফোলেটের উচ্চ মাত্রা শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতি কমায়, ত্রুটিপূর্ণ শুক্রাণুর সংখ্যা কমায় এবং নতুন শুক্রাণু উৎপাদন বাড়ায়। ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান দুই-ই উন্নত হয়।
গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পালং শাক নিয়মিত খেলে স্পার্ম ডেনসিটি (ঘনত্ব) ও মোটিলিটি (গতিশীলতা) বাড়ে এবং ফার্টিলিটি বৃদ্ধি পায়। তবে, নির্দিষ্টভাবে পালং শাক খেলে শুক্রাণুর সংখ্যা কত শতাংশ বা কত মিলিয়ন বাড়ে-এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক সংখ্যা বা পরিসংখ্যান প্রকাশিত নেই। অধিকাংশ গবেষণা ও পুষ্টিবিদরা “উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি” বা “ফার্টিলিটি বাড়ে” বলে উল্লেখ করেছেন।
সংক্ষেপে:
পালং শাকের ফোলেট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়াতে কার্যকর। নিয়মিত পালং শাক খেলে স্পার্ম উৎপাদন ও ফার্টিলিটি বৃদ্ধি পায়, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাগত বৃদ্ধির হার নিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই
১. স্বাভাবিক শুক্রাণুর সংখ্যা কত?
পুরুষের বীর্যে প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ১৫ মিলিয়ন থেকে ২০০ মিলিয়ন শুক্রাণু থাকা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। মোট শুক্রাণুর সংখ্যা প্রতি বীর্যপাতের জন্য কমপক্ষে ৩৯ মিলিয়ন হওয়া উচিত
২. কম শুক্রাণু সংখ্যা (Low Sperm Count) কী?
যখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা ১৫ মিলিয়নের নিচে থাকে, তখন তাকে কম শুক্রাণু সংখ্যা বা অলিগোস্পার্মিয়া বলা হয়। এর ফলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে
৩. শুক্রাণু একেবারেই না থাকলে কী হয়?
যদি বীর্যে একটিও শুক্রাণু না থাকে, তাহলে তাকে অ্যাজোস্পার্মিয়া বলা হয়, যা পুরুষ বন্ধ্যাত্বের একটি গুরুতর কারণ
৪. শুক্রাণুর গুণগত মানের গুরুত্ব কী?
শুক্রাণুর সংখ্যা ছাড়াও তাদের গতি (মোটিলিটি) এবং আকার (মরফোলজি) গুরুত্বপূর্ণ। ভালো গুণগত শুক্রাণু গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ায়
৫. শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ কী কী?
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন: মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, হরমোনের সমস্যা, অণ্ডকোষের সমস্যা, জীবনযাত্রার খারাপ অভ্যাস ইত্যাদি
৬. শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ানোর উপায় কী কী?
প্রাকৃতিকভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ কমানো, ধূমপান ও মদ্যপান এড়ানো প্রভৃতি জরুরি। কিছু ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টও সাহায্য করতে পারে
৭. শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকলে সন্তান ধারণ সম্ভব?
হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে কম শুক্রাণু সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও পুরুষরা সন্তান ধারণ করতে সক্ষম হন, তবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়5
ডিসক্লেইমার: এখানে উপরোক্ত হেলথটিপস এবং পরামর্শগুলি অনুসরণ করার পূর্বে , ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।